জ্যামিতিক আলোকবিজ্ঞান | লেকচার নোটস
একটি নির্দিষ্ট বিন্দু হতে অপর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে পরিভ্রমণকালে আলোক রশ্মি এমন একটি পথ অনুসরণ করে যা অতিক্রমে প্রয়োজনীয় সময় সর্বনিম্ন বা অবম নতুবা সর্বোচ্চ বা চরম অথবা অপরিবর্তিত তথা স্থির থাকে।
আপেক্ষিক প্রতিসরাঙ্ক ও পরম প্রতিসরাঙ্ক: আলোক রশ্মি এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে প্রতিসৃত হলে আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাতই হলো প্রথম মাধ্যমের সাপেক্ষে দ্বিতীয় মাধ্যমের আপেক্ষিক প্রতিসরাঙ্ক। মাধ্যমটি শূন্য মাধ্যম হলে তাকে পরম প্রতিসরাঙ্ক বলে।
প্রিজমের ক্ষেত্রে আপতন কোণ \(i_1\), নির্গমন কোণ \(i_2\) এবং প্রিজম কোণ \(A\) হলে, বিচ্যুতি কোণ \(\delta = i_1 + i_2 - A\)।
আপতন কোণের যে মানের জন্য বিচ্যুতি কোণের মান সর্বনিম্ন হয়, তাকে ন্যূনতম বিচ্যুতি কোণ বলে। এ অবস্থায় \(i_1 = i_2\) এবং \(r_1 = r_2 = A/2\) হয়।
যেসব প্রিজমের প্রিজম কোণ \(6^\circ\) বা এর চেয়ে ছোট তাদের সরু প্রিজম বলে। সরু প্রিজমের বিচ্যুতির রাশিমালা: \(\delta = (\mu - 1)A\)। এ সমীকরণ অনুসারে বিচ্যুতি প্রতিসরাঙ্কের উপর নির্ভরশীল।
লেন্স প্রস্তুতকারক সমীকরণ: একটি লেন্সের ফোকাস দূরত্ব লেন্সের উপাদানের প্রতিসরাঙ্ক এবং লেন্সের দুই পৃষ্ঠের বক্রতার ব্যাসার্ধের উপর নির্ভর করে।
লক্ষণীয় যে, উভোত্তল লেন্সের ক্ষেত্রে সাধারণ চিহ্ন প্রথা অনুযায়ী \(r_1\) ধনাত্মক এবং \(r_2\) ঋণাত্মক ধরা হয়।
লেন্সের ক্ষমতা বলতে একটি লেন্স আপতিত আলোক রশ্মিকে কতখানি অভিসারিত বা অপসারিত করতে পারে তাকে বোঝায়। ক্ষমতার একক ডায়াপ্টার (D)। \(P = \frac{1}{f}\) (মিটার এককে)।
অণুবীক্ষণ ও দূরবীক্ষণ যন্ত্রে মূলত দুটি লেন্স ব্যবহৃত হয়: অভিলক্ষ্য (Objective) এবং অভিনেত্ৰ (Eyepiece)।
এই যন্ত্রে অভিলক্ষ্যের ফোকাস দূরত্ব ও উন্মেষ ছোট হয়। চূড়ান্ত প্রতিবিম্ব স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম দূরত্বে গঠিত হলে এর বিবর্ধন হয়:
নভো-দূরবীক্ষণ যন্ত্র (Astronomical Telescope): এই যন্ত্রে অভিলক্ষ্যের ফোকাস দূরত্ব ও উন্মেষ অভিনেত্রের চেয়ে বড় হয়। অসীম ফোকাসিং বা স্বাভাবিক দর্শনের ক্ষেত্রে বিবর্ধন ক্ষমতা এবং যন্ত্রের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে:
প্রতিবিম্ব দ্বারা সৃষ্ট বীক্ষণ কোণ (\(\beta\)) এবং খালি চোখে লক্ষ্যবস্তু দ্বারা সৃষ্ট দৃষ্টিকোণের (\(\alpha\)) অনুপাতই কৌণিক বিবর্ধন। \(m = \frac{\beta}{\alpha}\)।