আমরা জানি, সেকেন্ড দোলকের দোলনকাল, \(T = 2\text{ s}\)।
সুতরাং সেকেন্ড দোলকের কম্পাঙ্ক, \(f = \frac{1}{T} = \frac{1}{2\text{ s}} = 0.5\text{ Hz}\)।
মানুষের শ্রাব্যতার ন্যূনতম সীমা \(20\text{ Hz}\)। অর্থাৎ, শব্দ শোনার জন্য শব্দের উৎসের কম্পাঙ্ক কমপক্ষে \(20\text{ Hz}\) হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেকেন্ড দোলকের কম্পাঙ্ক মাত্র \(0.5\text{ Hz}\) যা \(20\text{ Hz}\) থেকে অনেক কম। এ কারণে দোলয়মান সেকেন্ড দোলক কোনো শব্দ উৎপন্ন করে না।
কোনো তরঙ্গের সমকোণে একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে এক সেকেন্ডে যে পরিমাণ শক্তি প্রবাহিত হয় তাকে ঐ তরঙ্গের তীব্রতা বলে। তরঙ্গের তীব্রতা, \(I = 2\pi^2 a^2 n^2 \rho v\) (যেখানে, \(\rho\) মাধ্যমের ঘনত্ব, \(a\) তরঙ্গের বিস্তার এবং \(n\) তরঙ্গের কম্পাঙ্ক, \(v\) তরঙ্গের বেগ)।
উপরের সমীকরণ হতে দেখা যায় যে, \(I \propto a^2\) বা, \(I = Ka^2\), এখানে \(K\) ধ্রুবক। অর্থাৎ তরঙ্গের তীব্রতা সৃষ্টিকারী উৎসের কম্পনের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। বিস্তার বাড়লে তীব্রতা বাড়ে এবং বিস্তার কমলে তীব্রতা কমে।
তরঙ্গের তীব্রতা যে বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে তা হলো— তরঙ্গের বিস্তার, কম্পাঙ্ক, মাধ্যমের ঘনত্ব, মাধ্যমে তরঙ্গের বেগ এবং দূরত্ব।
কারণ, আমরা জানি, \(I = 2\pi^2 n^2 a^2 \rho v\)। উপরোক্ত সম্পর্ক থেকে স্পষ্ট যে, তরঙ্গের তীব্রতা এর বিস্তার ও কম্পাঙ্কের বর্গের সমানুপাতিক এবং এর বেগ ও মাধ্যমের ঘনত্বের সমানুপাতিক।
কোনো স্থানের শব্দের তীব্রতা \(10^{-8} \text{ watt m}^{-2}\) বলতে বুঝায় ঐ স্থানে শব্দ বিস্তারের অভিমুখে লম্বভাবে রাখা একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে \(10^{-8}\) Joule পরিমাণ শব্দ শক্তি প্রবাহিত হয়।
কোনো শব্দের তীব্রতা ও প্রমাণ তীব্রতার শব্দের শব্দোচ্চতার পার্থক্যকে তীব্রতা লেভেল বলে। কোনো শব্দের তীব্রতা লেভেল 20 dB বলতে বুঝায়:
১. দুটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের শব্দোচ্চতার পার্থক্য 20 dB যেখানে একটি প্রমাণ তীব্রতার শব্দের শব্দোচ্চতা।
২. কোনো শব্দের তীব্রতা ও প্রমাণ তীব্রতার অনুপাতের লগারিদমের দশ গুণ 20 dB এর সমান।
স্থির তরঙ্গের ক্ষেত্রে যে সকল বিন্দুতে লব্ধি বিস্তার, \(A\) সর্বাধিক অর্থাৎ, \(A = \pm 2a\) সেসকল বিন্দুতে সুস্পন্দ বিন্দুর উদ্ভব হবে। সুতরাং সুস্পন্দ বিন্দু সৃষ্টির শর্ত হলো:
\(2a \cos \left(\frac{2\pi x}{\lambda}\right) = \pm 2a\)
বা, \(\cos \left(\frac{2\pi x}{\lambda}\right) = \pm 1\)
বা, \(\frac{2\pi x}{\lambda} = 0, \pi, 2\pi ...\) ইত্যাদি
বা, \(x = 0, \frac{\lambda}{2}, \frac{2\lambda}{2} ... \frac{n\lambda}{2}\)
বা, \(x = 0, 2\frac{\lambda}{4}, 4\frac{\lambda}{4} ...\)
অর্থাৎ পথ পার্থক্য যেসকল বিন্দুতে \(x\) এর মান \(0\) বা \(\frac{\lambda}{4}\) এর জোড় গুণিতক সেসকল বিন্দুতে সুস্পন্দ বিন্দু সৃষ্টি হয়।
প্রতি সেকেন্ডে বিট 6 বলতে বুঝায়—
১. উৎসের ক্রিয়ার শব্দের তীব্রতা প্রতি সেকেন্ডে 6 বার হ্রাস-বৃদ্ধি হয়।
২. উৎসদ্বয়ের কম্পাঙ্কের পার্থক্য 6 Hz।
৩. উৎসদ্বয় হতে আগত শব্দ কোনো বিন্দুতে বা কানে প্রতি সেকেন্ডে 6 বার সমদশায় ও 6 বার বিপরীত দশায় মিলিত হয়।
স্পন্দনক্ষম বস্তুর উপর আরোপিত পর্যাবৃত্ত স্পন্দনের জন্য বস্তুটি তার স্বাভাবিক কম্পাঙ্কে কম্পিত হওয়ার পরিবর্তে যখন আরোপিত কম্পনের কম্পাঙ্কে কম্পিত হতে থাকে তখন এ কম্পনকে পরবশ কম্পন বলে। তবে বস্তুর স্বাভাবিক পর্যায়কাল যদি এর উপর আরোপিত পর্যায়কালের সমান হয় তখন বস্তুটির যে কম্পন হয় তাকে অনুনাদ বলে। সুতরাং সকল অনুনাদী কম্পনকে পরবশ কম্পন বলা গেলেও সকল পরবশ কম্পনকে অনুনাদ বলা যাবে না। কারণ অনুনাদী কম্পনে বিস্তার সর্বোচ্চ হলেও পরবশ কম্পনে বিস্তার কম-বেশি হতে পারে।
আমরা জানি, তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। অনুনাদী বস্তুর উপস্থিতির কারণে উপরিপাতন নীতি অনুসারে তরঙ্গ পরিবর্তিত বিস্তার নিয়ে কাঁপতে থাকে। ফলে শব্দের তীব্রতা তার বর্গের সমানুপাতে পরিবর্তিত হয়।
কোনো বস্তুর নিজস্ব কম্পাঙ্ক আর তার উপর আরোপিত পর্যাবৃত্ত স্পন্দনের কম্পাঙ্ক সমান হলে বস্তুটি অধিক বিস্তারে কম্পিত হয়। এ ধরনের কম্পনকে অনুনাদ বলে। আবার, কোনো কম্পনরত বস্তুকে অন্য একটি কম্পনক্ষম বস্তুর নিকট আনলে দ্বিতীয় বস্তুটিতে কম্পন শুরু হয়। একে পরবশ কম্পন বলে। তাই অনুনাদ হলো এক বিশেষ ধরনের পরবশ কম্পন।
তবলা কাঠের বা মাটির তৈরি একমুখ খোলা একটি ফাঁপা পাত্র। খোলামুখ ট্যানিং করা চামড়া দ্বারা বন্ধ থাকে। তাই তবলার চামড়া পর্দায় আঘাত করলে সুমধুর সুর উৎপন্ন হয়। কারণ তাতে কম্পাঙ্কের মানও বেশি থাকে (অনুনাদ সৃষ্টি হয়)। অপরদিকে দেয়ালে আঘাত করলে তাতে কম্পাঙ্কের মান অনেক কম হয়। ফলে এতে ততটা জোরালো শব্দ সৃষ্টি হয় না।
স্বর সৃষ্টিকারী সুরগুলোর মধ্যে যার কম্পাঙ্ক সর্বনিম্ন তাকে মূলসুর এবং এর চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের সুরগুলোকে উপসুর বলে, উপসুরের কম্পাঙ্ক মূলসুরের কম্পাঙ্কের সরল গুণিতক অর্থাৎ দ্বিগুণ, তিনগুণ ইত্যাদি হলে তাদেরকে হারমোনিক বা সমমেল বলে। যেমন— 512 Hz হবে 256 Hz এর হারমোনিক। এখানে 256 Hz হবে প্রথম হারমোনিক এবং 512 Hz হবে দ্বিতীয় হারমোনিক। কাজেই বলা যায় যে, সকল হারমোনিকই বা সমমেলই উপসুর কিন্তু সকল উপসুর হারমোনিক (সমমেল) নয়।
শব্দের যে বৈশিষ্ট্যের দ্বারা কোনো সুর চড়া বা চিকন এবং কোনো সুর মোটা বা খাদের তা বোঝা যায় তাকে শব্দের তীক্ষ্ণতা বলে। অপর দিকে এক সেকেন্ডে শব্দ তরঙ্গ যতগুলো পূর্ণ দোলন দেয় তাকে উক্ত শব্দের কম্পাঙ্ক বলে। তীক্ষ্ণতা শব্দের কম্পাঙ্কের উপর নির্ভর করে, কিন্তু তীক্ষ্ণতা ও কম্পাঙ্ক এক নয়।
বেসুরো শব্দ যেগুলোকে আমরা নয়েজ বলি মানুষের মনকে খিটখিটে করে তোলে। এই ধরনের শব্দে দীর্ঘদিন অবস্থান করলে মানুষের রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। অপরদিকে, সঙ্গীতগুণ শব্দ মানুষের মনে প্রশান্তি সৃষ্টি করে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। যার ফলে মানুষ নিরাপদে থাকে। অতএব বলা যায়, সঙ্গীতগুণ শব্দ মানুষের মনে প্রশান্তি সৃষ্টি করে নিরাপদে রাখে।
বড় বড় হলরুমের দেয়ালে হার্ডবোর্ড কিংবা পার্টেক্স বোর্ড লাগানো না থাকলে কংক্রিটের দেয়ালে শব্দ তরঙ্গের স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ হয়। ফলে তা প্রায় সমান তীব্রতা ও বেগ নিয়ে ফিরে আসে এবং বক্তার মুখ নিঃসৃত পরবর্তী শব্দ তরঙ্গের উপর উপরিপাতিত হয়ে তাকে বিকৃত করে। ফলে বক্তার কথা স্পষ্ট হয় না। তাই শব্দ শোষণ করার জন্য এসকল বোর্ড লাগানো হয়।